সোমবার পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে)-এর আয়োজনে চট্টগ্রামের কোতয়ালী শাখায় দিনব্যাপী একটি বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিএমকে হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহযোগিতায় পরিচালিত এই স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পে ৫ শতাধিক রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন ও ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়াও চক্ষুরোগীদের মাঝে বিনামূল্যে পাওয়ারের চশমা এবং চোখের ড্রপ বিতরণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা প্রদান করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মনোজ সিনহা, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মোছা. নাসরিন আক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়াংকা রায়, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আল মামুন, সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জহির উদ্দিন, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হাসান ও ডা. বিপুল চন্দ্র দাস। এছাড়াও চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ডা. মাসুদ রানা, ডা. তারেক ফয়সাল এবং ডা. এহসানউল্লাহ শুভ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ১৯৮৮ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে) বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর আওতায় মা ও শিশু স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, গর্ভবতী মায়েদের সেবা এবং চক্ষু চিকিৎসাসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি শাখার ব্যবস্থাপক আবু নাসির শেখ বলেন, “পিএমকে সবসময় সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম জোনের জোনাল আইটি ও জোনাল হিসাব কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “প্রতিবছর এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আমরা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকতে চাই।
মেডিকেল ক্যাম্পটি উদ্বোধন করেন কদমতলী এরিয়ার এপিএম মো. আবু ইউসুফ ভূঁইয়া। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক আবু নাসির শেখ, চট্টগ্রাম জোনের জোনাল হিসাব কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, শাখা হিসাবরক্ষক হাবিবউল্লাহ বোখারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পিএমকের প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেলথ ডা. কাজী সুদীপ্তা কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনকল্যাণমূলক এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

জনকাল ডেস্ক 













