ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বকাপের ধকল কাটিয়ে ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে ফিরলেন মেসি উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিকে পরিচালনা পর্ষদের বরণ ও পুরস্কার বিতরণ হাটহাজারী উপজেলার নারীদের বেসরকারি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্রপতি চাইলে সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চবিতে ভারতের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সেমিনার ও সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত চন্দনাইশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শর্তহীন নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ চাকসু এজিএস তৌফিকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ফুটসাল টুর্নামেন্ট ত্রাণ বিতরণ করলো সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন চন্দনাইশে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে ফারুক বাহাদুরের আর্থিক সহায়তা

তারেক রহমানের চীন সফর: বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

  • জনকাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় কূটনীতি আর শুধু রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি।

 

এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দিগন্তে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হতে পারে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা করাই যায়।

 

প্রধানমন্ত্রীর ২৩–২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনের এই চীন সফরে বিভিন্ন সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী মোট ১৩ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তি ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে।

 

বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সামরিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নই একটি দেশের প্রকৃত শক্তির অন্যতম ভিত্তি। আর একটি কার্যকর কূটনীতি সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতি এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। বিশেষ করে চীনের মতো শক্তিশালী অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর একটি দেশের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।.এই সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিগুলোর গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, বরং সেগুলোর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবেও নিহিত। যদি এসব চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়া, নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এবং রপ্তানি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক শিল্পব্যবস্থার প্রসারে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং উৎপাদন খাতে চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে পারে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বাণিজ্য বৈচিত্র্য অর্জনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

 
লেখক: নুসরাত জাহান কিন্নরী, শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বিশ্বকাপের ধকল কাটিয়ে ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে ফিরলেন মেসি

তারেক রহমানের চীন সফর: বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় ০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় কূটনীতি আর শুধু রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি।

 

এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দিগন্তে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হতে পারে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা করাই যায়।

 

প্রধানমন্ত্রীর ২৩–২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনের এই চীন সফরে বিভিন্ন সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী মোট ১৩ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তি ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে।

 

বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সামরিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নই একটি দেশের প্রকৃত শক্তির অন্যতম ভিত্তি। আর একটি কার্যকর কূটনীতি সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতি এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। বিশেষ করে চীনের মতো শক্তিশালী অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর একটি দেশের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।.এই সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিগুলোর গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, বরং সেগুলোর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবেও নিহিত। যদি এসব চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়া, নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এবং রপ্তানি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক শিল্পব্যবস্থার প্রসারে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং উৎপাদন খাতে চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে পারে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বাণিজ্য বৈচিত্র্য অর্জনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

 
লেখক: নুসরাত জাহান কিন্নরী, শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।