আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে ঘুষের বিনিময়ে বেআইনি নামজারি প্রদান এবং চন্দনাইশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার পশ্চিম এলাহাবাদ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম এলাহাবাদ মৌজার ১০৪০ খতিয়ানের ৩১৮ দাগের পৈতৃক মালিকানাধীন জমি নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উক্ত জমির স্বত্ব ও মালিকানা রক্ষায় বর্তমানে চন্দনাইশ সিভিল জজ আদালতে (অপর মামলা নং: ৩৪/২৫) এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কার্যালয়ে (নামজারী জমাভাগ আপীল নং: ১৫৪/২০২৬) মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অন্য কারও নামে যেন নামজারি না হয়, সেজন্য গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে রিসিভ কপিসহ লিখিত আপত্তি জানানো হয়। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিপক্ষের কোনো অফিশিয়াল আবেদন কিংবা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদন ছাড়াই অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রতিপক্ষের অনুকূলে বেআইনিভাবে ২০২৬-১০০০৯৩ নম্বর নামজারি খতিয়ান মঞ্জুর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সলিমুল্লাহ বলেন, "কোনো নথিভুক্ত আবেদন ও তহশিলদারদের প্রতিবেদন ছাড়া রাতারাতি নামজারি খতিয়ান অনুমোদন দেওয়া সুস্পষ্ট জালিয়াতি ও চন্দনাইশ এসি ল্যান্ডের চরম স্বেচ্ছাচারিতা। এসি ল্যান্ডের এই অনৈতিক আচরণ প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা। তাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি উক্ত অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক 













