ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ৪৮ বছরের বিএনপি: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: জামায়াত আমির মিনি ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী মারাত্মক আহত দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশে ভূমি বিরোধ নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে তনু হত্যা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রেকর্ডময় ইনিংসে তামিমকে ছাড়িয়ে ৩৫০ রানে ইনিংস ছাড়লেন হৃদয় জ্বালানি সংকট কাটাতে আরও এলএনজি কিনছে সরকার

চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চবিতে বৃক্ষরোপণ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল, অতীশ দীপঙ্কর হল ও শামসুন্নাহার হলে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন হলে মোট ৫২০টি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সার্বিক আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছেন আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস ও ইয়ুথ থ্রি-আর সোসাইটি, চবি। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের যে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করে থাকে। আমরা যখন একটা গাছ লাগাচ্ছি, এটা শুধু গাছ না, এটা একটা জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই বিষয়টাকে উপলব্ধি করার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের বলব, আমরা পরিবেশ শুধু মুখে নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের কাজেই করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কাজকে সহযোগিতা করার জন্য ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন জনাব শাখাওয়াত।’ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্টও চাই, আমরা পরিবেশও চাই। দুইটার মধ্যে সমন্বয় করেই আমাদের কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি যদি খুবই এক্সট্রিম লেভেলের পরিবেশবাদী হই, তাহলে ডেভেলপমেন্টটা পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে। আর যদি আমি ডেভেলপমেন্টালিস্ট হই, পরিবেশকে বাদ দিয়ে শুধু ডেভেলপমেন্টকে সামনে রাখি, তাহলে পরিবেশ ধ্বংস হবে।’ চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ‘বৃক্ষসখা’ হিসেবে পরিচিত শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘একটা গাছ রোপণ করে দিয়ে চলে গেলাম, এরপরে হয়তো গেটে যেতে যেতে এই গাছ থাকবে না, যদি অভিভাবকত্ব না থাকে। এই অভিভাবকত্ব নিয়ে যদি গাছ রোপণ করতে পারেন, তাহলে সেটা টিকবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের এই গাছটা ছয়টা লক্ষ্য পূরণ করবে, এসডিজি গোলস (SDG Goals) পূরণ করবে।’ পরিবেশ সংরক্ষণে প্রচারের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করব, এটা প্রচার হলেও কাজ করব, না হলেও কাজ করব।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার ইউনিভার্সিটিতে তো লক্ষ লক্ষ গাছ আছে, বাট ভ্যারাইটি কত আছে সেটা নিয়ে একটু ভাবা উচিত। এবং আমাদের দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলোকে এখানে ঠাঁই দেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করব অন্তত পাঁচটা হলেও ওরকম দুর্লভ প্রজাতির গাছ, যেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে, সেগুলো আপনারা রোপণ করবেন।’ কর্মসূচির আয়োজক চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, গত আট বছরে দেশের ৩৫টি জেলায় দুই লাখের বেশি বৃক্ষরোপণ করেছে সংগঠনটি। এ কাজে দেশব্যাপী চার শতাধিক তরুণের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল যুক্ত রয়েছে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় গাছ সংরক্ষণ, বিরল প্রজাতির বৃক্ষ রক্ষা এবং নদী ও পাখি সংরক্ষণেও কাজ করে যাচ্ছে চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ, চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট আব্দুল মান্নান, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হক এবং অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এ.জি.এম. নিয়াজ উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক নুরনবী, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক সাইদুর রহমান, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক নাজনীন আক্তার নীলু, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ দাউদ নবীসহ হল সংসদের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চবিতে বৃক্ষরোপণ

আপডেট সময় ১০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল, অতীশ দীপঙ্কর হল ও শামসুন্নাহার হলে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন হলে মোট ৫২০টি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সার্বিক আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছেন আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস ও ইয়ুথ থ্রি-আর সোসাইটি, চবি। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের যে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করে থাকে। আমরা যখন একটা গাছ লাগাচ্ছি, এটা শুধু গাছ না, এটা একটা জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই বিষয়টাকে উপলব্ধি করার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের বলব, আমরা পরিবেশ শুধু মুখে নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের কাজেই করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কাজকে সহযোগিতা করার জন্য ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন জনাব শাখাওয়াত।’ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্টও চাই, আমরা পরিবেশও চাই। দুইটার মধ্যে সমন্বয় করেই আমাদের কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি যদি খুবই এক্সট্রিম লেভেলের পরিবেশবাদী হই, তাহলে ডেভেলপমেন্টটা পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে। আর যদি আমি ডেভেলপমেন্টালিস্ট হই, পরিবেশকে বাদ দিয়ে শুধু ডেভেলপমেন্টকে সামনে রাখি, তাহলে পরিবেশ ধ্বংস হবে।’ চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ‘বৃক্ষসখা’ হিসেবে পরিচিত শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘একটা গাছ রোপণ করে দিয়ে চলে গেলাম, এরপরে হয়তো গেটে যেতে যেতে এই গাছ থাকবে না, যদি অভিভাবকত্ব না থাকে। এই অভিভাবকত্ব নিয়ে যদি গাছ রোপণ করতে পারেন, তাহলে সেটা টিকবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের এই গাছটা ছয়টা লক্ষ্য পূরণ করবে, এসডিজি গোলস (SDG Goals) পূরণ করবে।’ পরিবেশ সংরক্ষণে প্রচারের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করব, এটা প্রচার হলেও কাজ করব, না হলেও কাজ করব।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার ইউনিভার্সিটিতে তো লক্ষ লক্ষ গাছ আছে, বাট ভ্যারাইটি কত আছে সেটা নিয়ে একটু ভাবা উচিত। এবং আমাদের দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলোকে এখানে ঠাঁই দেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করব অন্তত পাঁচটা হলেও ওরকম দুর্লভ প্রজাতির গাছ, যেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে, সেগুলো আপনারা রোপণ করবেন।’ কর্মসূচির আয়োজক চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, গত আট বছরে দেশের ৩৫টি জেলায় দুই লাখের বেশি বৃক্ষরোপণ করেছে সংগঠনটি। এ কাজে দেশব্যাপী চার শতাধিক তরুণের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল যুক্ত রয়েছে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় গাছ সংরক্ষণ, বিরল প্রজাতির বৃক্ষ রক্ষা এবং নদী ও পাখি সংরক্ষণেও কাজ করে যাচ্ছে চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ, চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট আব্দুল মান্নান, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হক এবং অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এ.জি.এম. নিয়াজ উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক নুরনবী, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক সাইদুর রহমান, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক নাজনীন আক্তার নীলু, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ দাউদ নবীসহ হল সংসদের নেতারা।