ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ৪৮ বছরের বিএনপি: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: জামায়াত আমির মিনি ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী মারাত্মক আহত দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশে ভূমি বিরোধ নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে তনু হত্যা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রেকর্ডময় ইনিংসে তামিমকে ছাড়িয়ে ৩৫০ রানে ইনিংস ছাড়লেন হৃদয় জ্বালানি সংকট কাটাতে আরও এলএনজি কিনছে সরকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিন বছর পর ‘৩৬তম বার্ষিক সিনেট সভা’অনুষ্ঠিত

  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট-এর ৩৬তম বার্ষিক সভা আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টায় চবি ড. এ.আর. মল্লিক ভবনে (প্রশাসনিক ভবন) উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্বব্যিালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৫০৩ কোটি ৪৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার মূল বাজেট উপস্থাপন করেন চ.বি. রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাছান মিয়া। সিনেট সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়। মাননীয় উপাচার্য তাঁর লিখিত বক্তব্যে,বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আমাদের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, IQAC-এর উদ্যোগে ত্রিশটিরও অধিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় Outcome-Based Education তথা OBE পদ্ধতি এবং অভিন্ন সেমিস্টার পদ্ধতিতে পদার্পন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে একযোগে এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। গবেষণা ও শিক্ষার মান সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল ধরনের সহায়তার মাধ্যমে গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতীতে অনুষদের শিক্ষকবৃন্দকে গবেষণায় নিয়োজিত রাখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালনা করেছে। উল্লেখ্য যে, এই গবেষণা সেল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শিক্ষকদের গবেষণা অনুদান খাতে ১০ কোটি টাকা, এম.ফিল. ও অন্যান্য খাতে ৬৭ লক্ষ টাকা এবং পিএইচ.ডি. ও মাস্টার্স থিসিস খাতে অর্থ অনুদান চলমান রেখেছে। আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য ২৯ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে ইউজিসি'তে প্রস্তাবনা পেশ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ কোটি ৩৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেশকৃত "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে Teacher-Students Complex (TSC) প্রতিষ্ঠাকরণ" এবং ৬৭৮ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেশকৃত "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক ২টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমান। অতিশীঘ্রই উক্ত ২টি প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) অনুমোদনের বিষয়ে আমি আশাবাদী এবং এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদ্বয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। উক্ত ২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত, একাডেমিক এবং গবেষণা প্রতিবন্ধকতাসমূহ বহুলাংশে নিরসন হবে। প্রকল্প ২টির গুরুত্বপূর্ণ Component গুলোর মধ্যে TSC কমপ্লেক্স নির্মাণ, ১০ তলা বিশিষ্ট ১টি ছাত্রী হল নির্মাণ, ৩টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩টি গবেষণা পরিচালনা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, সিনেট ভবন ও ২য় প্রশাসনিক এনেক্স ভবন নির্মাণ, সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সংস্থাপন, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ, এসটিপি, বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন সংস্থাপন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মাননীয় উপাচার্য বলেন, অতি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস সৃষ্টির নিমিত্তে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও স্থাপনাসমূহের মেরামত ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংযুক্ত করে ব্যবহারোপযোগী করার নিমিত্তে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রথমোক্ত প্রকল্পের আওতায় ছাত্রদের জন্য ৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫টি করে (প্রতিটি ১০ তলা বিশিষ্ট) আবাসিক হল নির্মাণ, বিদেশী শিক্ষার্থী ও পিএইচডি-এমফিল গবেষকদের জন্য ০১টি হল নির্মাণ, ০৪টি ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ব্লু-ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ, কেন্দ্রীয় জাদুঘর ভবন নির্মাণ, গ্রন্থাগারের ২য় ভবন নির্মাণ, স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ, রসায়ন বিভাগের এডভান্সড রিসার্চ ল্যাব নির্মাণ, এডভান্সড রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্স ভবন নির্মাণ, মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ ভবন নির্মাণ, জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল ইনস্টিটিউট (জিনোম সিক্যুয়েন্সিং এবং রেফারেল সেন্টারসহ) ভবন নির্মাণ, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ, কয়েকটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ, টিচার্স ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, সোলার লাইটিং সহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ফুড কোর্ট, ওয়েট মার্কেট ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। অতিশীঘ্রই উক্ত ০২ টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংযুক্ত হবে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Higher Education Acceleration and Transformation (HEAT) Project এর আওতায় ১ম রাউন্ডে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৯ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকার ০৮ টি Sub-Project চলমান রয়েছে। এ সব Sub-Project বাস্তবায়নের মাধ্যমে Teaching-Learning পরিবেশ উন্নয়নের সাথে সাথে আনুষঙ্গিক সুবিধাসমূহ সংযুক্ত হবে। এছাড়াও কতিপয় Sub-Project চিকিৎসা ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনে এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। HEAT প্রজেক্টের আওতায় ২য় রাউন্ডে এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৫২টি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই এর পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ব্যানবেইস এবং অন্যান্য এজেন্সির অর্থায়নে অনেকগুলো গবেষণা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সেবার আধুনিকায়ন সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, শিক্ষা ও সেবার আধুনিকায়ন এর লক্ষ্যে Digital Network তথা High Powered Wi-Fi চালু, Internet of Things (IoT) সেন্সরড ড্যাশবোর্ড ও নিরাপত্তা ক্যামেরা, Real Time তথ্য সরবরাহে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রভৃতির মাধ্যমে সংযুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যাদি Automation এর আওতায় আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার আধুনিকায়ন এবং ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাননীয় উপাচার্য ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পেশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ভিশন এবং SDG 2030 এর Goal-4 (SDG-4) এর আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সিনেট সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। মাননীয় উপাচার্যের ভাষণ ও বাজেটের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবি সম্মানিত সিনেট সদস্য মাননীয় সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩ আসন), এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮ আসন), গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬ আসন) ও সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০ আসন)। এছাড়া সম্মানিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯) উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য সিনেট সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করেন ড. মোহাম্মদ মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাহিদা শুলশান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নিলুফা আকতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. প্রীথিলা নাজনীন নীলিমা, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এস.এম ফজলুল হক, জনাব শ. ম. নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. আবদুল গফুর, প্রফেসর জমির উদ্দিন আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মনসুর উদ্দিন আহমদ ও জনাব মোহাম্মদ রেজাউল কবির। সিনেট সভায় সম্মানিত সিনেটরবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সিনেট সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর গত সিনেট সভার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও দেশবরেণ্য বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পেশ করা হয়। এরপর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক নীরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিন বছর পর ‘৩৬তম বার্ষিক সিনেট সভা’অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট-এর ৩৬তম বার্ষিক সভা আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টায় চবি ড. এ.আর. মল্লিক ভবনে (প্রশাসনিক ভবন) উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্বব্যিালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৫০৩ কোটি ৪৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার মূল বাজেট উপস্থাপন করেন চ.বি. রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাছান মিয়া। সিনেট সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়। মাননীয় উপাচার্য তাঁর লিখিত বক্তব্যে,বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আমাদের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, IQAC-এর উদ্যোগে ত্রিশটিরও অধিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় Outcome-Based Education তথা OBE পদ্ধতি এবং অভিন্ন সেমিস্টার পদ্ধতিতে পদার্পন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে একযোগে এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। গবেষণা ও শিক্ষার মান সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল ধরনের সহায়তার মাধ্যমে গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতীতে অনুষদের শিক্ষকবৃন্দকে গবেষণায় নিয়োজিত রাখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালনা করেছে। উল্লেখ্য যে, এই গবেষণা সেল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শিক্ষকদের গবেষণা অনুদান খাতে ১০ কোটি টাকা, এম.ফিল. ও অন্যান্য খাতে ৬৭ লক্ষ টাকা এবং পিএইচ.ডি. ও মাস্টার্স থিসিস খাতে অর্থ অনুদান চলমান রেখেছে। আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য ২৯ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে ইউজিসি'তে প্রস্তাবনা পেশ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ কোটি ৩৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেশকৃত "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে Teacher-Students Complex (TSC) প্রতিষ্ঠাকরণ" এবং ৬৭৮ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেশকৃত "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক ২টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমান। অতিশীঘ্রই উক্ত ২টি প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) অনুমোদনের বিষয়ে আমি আশাবাদী এবং এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদ্বয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। উক্ত ২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত, একাডেমিক এবং গবেষণা প্রতিবন্ধকতাসমূহ বহুলাংশে নিরসন হবে। প্রকল্প ২টির গুরুত্বপূর্ণ Component গুলোর মধ্যে TSC কমপ্লেক্স নির্মাণ, ১০ তলা বিশিষ্ট ১টি ছাত্রী হল নির্মাণ, ৩টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩টি গবেষণা পরিচালনা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, সিনেট ভবন ও ২য় প্রশাসনিক এনেক্স ভবন নির্মাণ, সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সংস্থাপন, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ, এসটিপি, বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন সংস্থাপন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মাননীয় উপাচার্য বলেন, অতি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস সৃষ্টির নিমিত্তে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও স্থাপনাসমূহের মেরামত ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংযুক্ত করে ব্যবহারোপযোগী করার নিমিত্তে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রথমোক্ত প্রকল্পের আওতায় ছাত্রদের জন্য ৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫টি করে (প্রতিটি ১০ তলা বিশিষ্ট) আবাসিক হল নির্মাণ, বিদেশী শিক্ষার্থী ও পিএইচডি-এমফিল গবেষকদের জন্য ০১টি হল নির্মাণ, ০৪টি ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ব্লু-ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ, কেন্দ্রীয় জাদুঘর ভবন নির্মাণ, গ্রন্থাগারের ২য় ভবন নির্মাণ, স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ, রসায়ন বিভাগের এডভান্সড রিসার্চ ল্যাব নির্মাণ, এডভান্সড রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্স ভবন নির্মাণ, মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ ভবন নির্মাণ, জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল ইনস্টিটিউট (জিনোম সিক্যুয়েন্সিং এবং রেফারেল সেন্টারসহ) ভবন নির্মাণ, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ, কয়েকটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ, টিচার্স ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, সোলার লাইটিং সহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ফুড কোর্ট, ওয়েট মার্কেট ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। অতিশীঘ্রই উক্ত ০২ টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংযুক্ত হবে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Higher Education Acceleration and Transformation (HEAT) Project এর আওতায় ১ম রাউন্ডে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৯ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকার ০৮ টি Sub-Project চলমান রয়েছে। এ সব Sub-Project বাস্তবায়নের মাধ্যমে Teaching-Learning পরিবেশ উন্নয়নের সাথে সাথে আনুষঙ্গিক সুবিধাসমূহ সংযুক্ত হবে। এছাড়াও কতিপয় Sub-Project চিকিৎসা ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনে এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। HEAT প্রজেক্টের আওতায় ২য় রাউন্ডে এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৫২টি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই এর পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ব্যানবেইস এবং অন্যান্য এজেন্সির অর্থায়নে অনেকগুলো গবেষণা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সেবার আধুনিকায়ন সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, শিক্ষা ও সেবার আধুনিকায়ন এর লক্ষ্যে Digital Network তথা High Powered Wi-Fi চালু, Internet of Things (IoT) সেন্সরড ড্যাশবোর্ড ও নিরাপত্তা ক্যামেরা, Real Time তথ্য সরবরাহে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রভৃতির মাধ্যমে সংযুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যাদি Automation এর আওতায় আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার আধুনিকায়ন এবং ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাননীয় উপাচার্য ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পেশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ভিশন এবং SDG 2030 এর Goal-4 (SDG-4) এর আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সিনেট সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। মাননীয় উপাচার্যের ভাষণ ও বাজেটের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবি সম্মানিত সিনেট সদস্য মাননীয় সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩ আসন), এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮ আসন), গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬ আসন) ও সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০ আসন)। এছাড়া সম্মানিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯) উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য সিনেট সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করেন ড. মোহাম্মদ মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাহিদা শুলশান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নিলুফা আকতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. প্রীথিলা নাজনীন নীলিমা, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এস.এম ফজলুল হক, জনাব শ. ম. নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. আবদুল গফুর, প্রফেসর জমির উদ্দিন আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মনসুর উদ্দিন আহমদ ও জনাব মোহাম্মদ রেজাউল কবির। সিনেট সভায় সম্মানিত সিনেটরবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সিনেট সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর গত সিনেট সভার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও দেশবরেণ্য বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পেশ করা হয়। এরপর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক নীরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।