চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা কাগজে-কলমে ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পেলেও বাস্তবে এর নাগরিক সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ১৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন কর্মী, ফলে ১৩৯টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এই বিশাল জনবল সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পৌরসভার প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাজ।
২০০২ সালে ‘গ’ শ্রেণি হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর ২০০৫ সালে এটি ‘খ’ এবং ২০১৬ সালে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১৭.০৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৬৮ হাজার মানুষের বসবাস। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নত সড়ক, পানি সরবরাহ ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ— কাঙ্ক্ষিত সেবার অর্ধেকও মিলছে না।
পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বহু পদে কোনো লোকবল নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। বাজার, লাইসেন্স ও কসাইখানা পরিদর্শক। শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা এবং স্টোর কিপার। এছাড়া পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোও প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার অর্ধেকের বেশি রাস্তা এখনো কাঁচা। পাকা রাস্তাগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ, যা বর্ষাকালে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গাছবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে থাকে। পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় রাতের বেলা অনেক এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চন্দনাইশ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, "পৌরসভার কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবল বাড়ানো জরুরি। আমরা শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি।"
দ্রুত লোকবল নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সংস্কার না হলে চন্দনাইশবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 













