ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আসন্ন বরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া কামনা করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ ওবাইদুল হক রোকন চৌধুরী সিআইপি চন্দনাইশে ‘ফ্রি চক্ষু অপারেশন ও চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ৪৮ বছরের বিএনপি: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: জামায়াত আমির মিনি ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী মারাত্মক আহত দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশে ভূমি বিরোধ নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে তনু হত্যা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

জনবল ও অবকাঠামো সংকটে চন্দনাইশ পৌরসভা, ‘ক’ শ্রেণির তকমা থাকলেও সেবায় বেহাল দশা

 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা কাগজে-কলমে ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পেলেও বাস্তবে এর নাগরিক সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ১৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন কর্মী, ফলে ১৩৯টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এই বিশাল জনবল সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পৌরসভার প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাজ।

 

২০০২ সালে ‘গ’ শ্রেণি হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর ২০০৫ সালে এটি ‘খ’ এবং ২০১৬ সালে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১৭.০৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৬৮ হাজার মানুষের বসবাস। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নত সড়ক, পানি সরবরাহ ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ— কাঙ্ক্ষিত সেবার অর্ধেকও মিলছে না।

 

পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বহু পদে কোনো লোকবল নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। বাজার, লাইসেন্স ও কসাইখানা পরিদর্শক। শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা এবং স্টোর কিপার। এছাড়া পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোও প্রায় স্থবির হয়ে আছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার অর্ধেকের বেশি রাস্তা এখনো কাঁচা। পাকা রাস্তাগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ, যা বর্ষাকালে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গাছবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে থাকে। পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় রাতের বেলা অনেক এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চন্দনাইশ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, "পৌরসভার কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবল বাড়ানো জরুরি। আমরা শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি।"

দ্রুত লোকবল নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সংস্কার না হলে চন্দনাইশবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসন্ন বরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া কামনা করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ ওবাইদুল হক রোকন চৌধুরী সিআইপি

জনবল ও অবকাঠামো সংকটে চন্দনাইশ পৌরসভা, ‘ক’ শ্রেণির তকমা থাকলেও সেবায় বেহাল দশা

আপডেট সময় ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা কাগজে-কলমে ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পেলেও বাস্তবে এর নাগরিক সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ১৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন কর্মী, ফলে ১৩৯টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এই বিশাল জনবল সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পৌরসভার প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাজ।

 

২০০২ সালে ‘গ’ শ্রেণি হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর ২০০৫ সালে এটি ‘খ’ এবং ২০১৬ সালে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১৭.০৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৬৮ হাজার মানুষের বসবাস। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নত সড়ক, পানি সরবরাহ ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ— কাঙ্ক্ষিত সেবার অর্ধেকও মিলছে না।

 

পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বহু পদে কোনো লোকবল নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। বাজার, লাইসেন্স ও কসাইখানা পরিদর্শক। শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা এবং স্টোর কিপার। এছাড়া পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোও প্রায় স্থবির হয়ে আছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার অর্ধেকের বেশি রাস্তা এখনো কাঁচা। পাকা রাস্তাগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ, যা বর্ষাকালে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গাছবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে থাকে। পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় রাতের বেলা অনেক এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চন্দনাইশ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, "পৌরসভার কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবল বাড়ানো জরুরি। আমরা শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি।"

দ্রুত লোকবল নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সংস্কার না হলে চন্দনাইশবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।